ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:২৬:১৩ PM

পদোন্নতিতে দলীয় বিবেচনা নয়, যোগ্যতায়”

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
26-07-2026 12:38:26 PM
পদোন্নতিতে দলীয় বিবেচনা নয়, যোগ্যতায়”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, সততা, শৃঙ্খলা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীর মতো একটি পেশাদার বাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে একমাত্র যোগ্যতাই বিবেচ্য হওয়া উচিত এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত পক্ষপাত যেন মূল্যায়নে প্রভাব না ফেলে।

রোববার (২৬ জুলাই) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (প্রথম পর্ব)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ নির্বাচনী পর্ষদের মাধ্যমে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রাখা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা অন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যেন মূল্যায়নের ভিত্তি না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন কর্মকর্তার পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, সততা, বিশ্বস্ততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাই পদোন্নতির প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত। এসব গুণাবলির যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য কর্মকর্তাদের নির্বাচন করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যোগ্য কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হলে বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ আরও সুদৃঢ় হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও দুর্যোগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সকালে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (প্রথম পর্ব)-এর উদ্বোধন করেন। এ সময় সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী পর্ষদের কার্যক্রম ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফটোসেশনে অংশ নেন। পরে তিনি সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর ও মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীর সদস্যরা একই নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।