ঢাকা, মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর ২০২০ , বাংলা - 

ডিএসসিসির দুর্নীতি চাপা দিতেই বদলি

স্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

বৃহঃস্পতিবার ২রা জুলাই ২০২০ দুপুর ১২:৩৩:৩৫

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্পত্তি বিভাগের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, লুটপাট, জালিয়াতি ও নানা অনিয়ম ধামা চাপা দিতেই অফিস সহকারী কাম- কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহবুবা খানমকে বদলি করা হয়েছে। একই সাখে অফিস সহকারী -কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ইসহাককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত হলে কেঁচো খুড়তে সাপা বেরিয়ে আসবে জানান সাধারণ কর্মচারীরা।

মো. ইসহাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি তহবিল তসরুপ ও প্রতারণা অর্থ আত্মসাতের।  ছিলেন মো. ইসহাক ছিলেন  , প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিনের আস্থাভাজন , অঘোষিত ক্যাশিয়ার ও অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মচারী ।

জানা যায়, ২১ জুন ( রোববার) ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপসের নির্দেশে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী মো. ইসহাককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।ডিএসসিসি সচিব আকতারুজ্জামানের স্বাক্ষরে জারি করা অফিস আদেশটি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের ২২ জুন পাঠানো হযেছে।

তাকে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় কারপাকিং সংক্রান্ত ইজারার মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।আর গত ১৭ জুন মাহবুবা খানমকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এখনো মাহবুবা খানমের বদলিকৃত নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে গেলে তাকে গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এদিকে ডিএসসিসির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ” সম্পত্তি বিভাগের অফিস সহকারী -কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ইসহাকের বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চাকরি বিধিমালা ২০১৯’ এর বিধি ৪৯ (খ) ও (চ) মতে যথাক্রমে অসদাচরণ এবং আত্মসাৎ, তহবিল তসরুপ ও প্রতারণার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুসহ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সে মোতাবেক একই বিধিমালার বিধি ৫৫ (১) মতে তাকে চাকুরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকী ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ কার্যকর হবে।”

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসসিসির সাধারণ কর্মচারীরা জানান, সম্পত্তি বিভাগে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকাশ্যে চলছে লাগামহীন দুর্নীতি, জালিয়াতি, কোটি কোটি টাকা লুটপাটের ভয়াবহ ঘটনা। কোটি কোটি টাকার ‘মালামাল অকশনের নামে পানির ধরে বাছাইকৃত কতিপয় লোকের কাছে বিক্রি দেখিয়ে নিজেরা লাখ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে যাচ্ছন।

এছাড়া ডিএসসিসির বিভিন্ন কাাঁচাবাজ, কার পাকিংগুলো নাম মাত্র মূল্যে ইজারা দেয়া হচ্ছে। আবার কখনো খাশকালেকশনের নামে সামান্য কিছু টাকা ফান্ডে জমা দিয়ে পুরো টাকা নিজেরা ভাগাভাগি করছেন। প্রতি বছর ১৪ টি কোরবানী পশুর অস্থায়ী হাট ইজারার নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে। গত ৪ বছরের দুর্নীতি জালিয়াতি, লুটপাট তদন্ত হলে , বিভাগীয় প্রধানসহ অনেকেই ফেঁসে যাবেন।

সাধারণ কর্মচারীরা জানান, গত বছরের কোরবানী পশুর হাট ইজারায় অংশ গ্রহণকারীদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে নেয়া বিভিন্ন ব্যাংকের ‘ পে অডার’ আজো খুজে পাওয়া যায় না। এই ধরনের আরো অনেক বড় বড় চেক জালিয়াতির ঘটনা চাপা পড়ে রয়েছে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার দপ্তরে।

ডিএসসিসির ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নগরীতে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়া ১৪টি কোরবানী পশুর হাটের ইজারার মূল নথি পত্র তদন্ত করলে মারাতœক জালিয়াতি, লুটপাট, সরকারি কোটি কোটি টাকা ভাগাভাগি ও আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।

কারণ কর্মকর্তারা সময় মতো ইজারা না দিয়ে , প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাসহ একটি সিন্ডিকেট খাসকালেকশনের নামে অধিকাংশ কোরবানী পশুর হাটের কোটি কোটি আত্মসাত করেছে। নিজেরা বাঁচার জন্য নামমাত্র কিছু টাকা ডিএসসিসির ফান্ড জমা দিয়েছেন। তবে নথিপত্র তদন্ত হওয়া প্রয়োজন রয়েছে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পত্তি বিভাগের নিয়ত্রিত বেশ কয়টি কাঁচাবাজার, কারপাকিং নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে পুরো টাকা লোপাটরে নেতৃত্বে ছিলেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকতার আস্থাভাজন ও কাশিয়ার বলে খ্যাত মো. ইসহাক। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত সরকারি অফিস থাকলেও মো. ইসহাক রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত অফিসে কম্পিউটারে কাজ করতেন। সম্পত্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পাশকাটিয়ে সরাসরি এসব নথিপত্র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার সামনে উপস্খাপনও করতেন মো. ইসহাক। শুধু তাইনয়, সম্পত্তি বিভাগে বিকেল হলেই বহিরাগত লোকজনের ভীড় জমে যেতো।

আরো পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, ২০১৭ সালে সম্পত্তি বিভাগে কোরবানী হাটের ইজারায় জালিয়াতি এবং কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় প্রতিবাদ করে সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকায় সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শামসুল আলমকে বরখাস্ত করেন।

তৎকালীন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী পরামর্শে মেয়র সাঈদ খোকনের নিদেশে সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শামসুল আলমকে টানা ৩ বছর বরখাস্ত করে রাখেন। পরে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী চলে যাবার পর প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আসাদুজ্জামন এবং বর্তমানে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছে রাসেল সাররিন।

অবশেষে দাবি উঠেছে ২০১৭ সাল থেকে এপর্যন্ত প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার দপ্তরে লাগানহীন অনিয়ম, জালিয়াতি ও হরিলুটের ঘটনা তদন্তের। প্রতিটি নথি সুক্ষ্নভাবে তদন্ত হলে কেঁচো খুড়তে বড় বড় অজগর সাপ বেরিয়ে আসবে বলে জানান সাধারণ কর্মচারীরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নুর তাপস ডিএসসিসির মেয়র নির্বাচিত হবার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়জন কর্মকর্তার আতঙ্কে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ৩ জনকে বিদায় করলেও বাকিরা এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

জানাযায়, টানা ৩ বছর পর গত মে মাসে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সহকরাী সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শামসুল আলমকে চাকরিতে পুনবহাল করেছেন। একই সাখে তার বিরুদ্ধে আনিত আগের অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

গত ২২ জুন (সামবার) দুপুর ১২ টার এদিকে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল  সাবরিনের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলে, তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সাথে সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শামসুল আলমের সাথে কথা বলতে নির্দেশ দেন। পরে শামসুল আলমের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, গত ৩ বছর এই দপ্তরের কাজ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছে। যারফলে এসব অভিযোগ সম্পর্কে কোন তথ্য তার কাছে নেই। তিনি বর্তমানে কোরবানীর পশুর হাটের ইজারার সিডিউল বিক্রির দায়িত্বে আছেন। তবে এবার কোনো ধরনের অনিয়ম হতে দেবেন না বলে জানান তিনি। সবার কাছেই কোরবানীর হাটের সিডিউল বিক্রি করা হচ্ছে।