ঢাকা, মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর ২০২০ , বাংলা - 

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৩ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

বৃহঃস্পতিবার ২রা এপ্রিল ২০২০ দুপুর ০২:১২:৩২

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য এ সংকট উত্তোরণ আরও বড় চ্যালেঞ্জ। একই অবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব কটি দেশেরই। ঘনবসতি, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অসচেতনতা, ভারসাম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এই অঞ্চলকে করোনা ভাইরাস মহামারির সবচেয়ে খারাপ প্রভাবের ঝুঁকিতে ফেলেছে। প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধে প্রতিরোধমূলক যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার অর্থনৈতিক ক্ষতি ব্যাপক হবে বলে মনে করছে লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মনে করছে, এ জটিল অবস্থায় চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৩ শতাংশ, যা আগে সাড়ে ৭ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল।এক বিশ্লেষণে দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, বাংলাদেশ ও ভারত তাদের শক্তিশালী অথনৈতিক অবস্থানের কারণে তুলনামূলক বেশি প্রণোদনা সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় প্রণোদনার ধরন কিছুটা সীমিত হবে।

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট আশঙ্কা করছে, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এ অঞ্চলে চলতি বছর প্রবৃদ্ধি অনেকই কমবে। জনগণের চলাচল কমাতে সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় একটা বড় ধাক্কা লেগেছে চাহিদার দিক দিয়ে—এতে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেরই প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এরপর কারখানা ও ব্যবসা–বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গিয়ে পড়েছে আরেকটি ধাক্কা। পরে যা চাহিদার ওপর আরেক ধরনের ধাক্কা দেবে। বিশ্বজুড়ে একই পদক্ষেপ নেওয়ায় তা রপ্তানি চাহিদাও সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে।

ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা আনার জন্য ও চাহিদা কমে যাওয়ায় পর্যটক আগমন বন্ধ করে দিয়েছে। ভোক্তার পক্ষ থেকে চাহিদা কমে যাওয়া, সেই সঙ্গে রপ্তানি কমে যাওয়ায় নিয়মিত ব্যবসায়িক আয় কমবে। ফলে কোম্পানিগুলো তাদের নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না এবং বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা ছিল, তা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ও সরকারপ্রধানেরা মহামারির অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটাতে বিভিন্ন পুনরুদ্ধার প্যাকেজ ঘোষণা করছে। তবে এসব পদক্ষেপে অর্থনৈতিক ক্ষতি খুব বেশি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, তা বিশ্বাস করা কঠিন। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদের সুদহার কমিয়েছে এবং আর্থিক খাতে তারল্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সরকার প্রাথমিকভাবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য আর্থিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ভারত সরকার, যা দেশটির মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। পাকিস্তান ঘোষণা করেছে ৭১০ কোটি ডলারের পুনরুদ্ধার প্যাকেজ, যা দেশটির মোট জিডিপির ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকার ৬০ কোটি ডলারের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

সংকট আরও বাড়লে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সরকারকে হয়তো আর্থিক প্যাকেজের আকার বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ, ভারত এখনো বড় আকারের প্যাকেজ সরবরাহ করেনি। যদিও আশা করা যায় যে তারা পর্যাপ্ত আর্থিক নীতিমালা স্থাপন করে ও সরকারি ঋণ এবং রাজস্ব ঘাটতির স্তর ঠিক রেখে আগ্রাসী আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জন্য আইএমএফ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা শিথিল করলে এই দুটি দেশের পক্ষে আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানো সম্ভব হবে। যদিও শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো ঋণগ্রহীতা ও রাজস্ব ঘাটতির দেশে তা সব সময়ই বেশ সীমাবদ্ধ। এসব দেশের মুদ্রানীতিবিষয়ক প্রণোদনা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমাবদ্ধ কারণ কর্তৃপক্ষ সব সময়ই চায় তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঠেকাতে।

দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট মনে করছে, এ জটিল অবস্থায় চলতি বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ২ শতাংশ, যা আগে ৬ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে। কোনো প্রবৃদ্ধিই হবে না দেশটিতে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৩ শতাংশ, যা আগে সাড়ে ৭ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করছে দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।