ঢাকা, শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

বরিশালে বাস চলাচল বন্ধ,ভোগান্তিতে যাত্রীরা

জেলা সংবাদদাতা।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

মঙ্গলবার ১৯শে নভেম্বর ২০১৯ দুপুর ১২:১৬:০২

বরিশাল : আনুষ্ঠানিক কোনো ধর্মঘট কিংবা কর্মবিরতি নয়, নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনে জেল-জরিমানার ভয়ে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বরিশালের পরিবহন শ্রমিকরা। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ সকল এবং দূরপাল্লার আংশিক রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। আকস্মিক বাস বন্ধের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।

এদিকে, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচল করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ভাঙচুর করা হচ্ছে বাস। এছাড়া নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনে জেল-জরিমানা বেশি থাকায় শ্রমিকরা ভয়ে বাস চলাচল করা থেকে বিরত থাকছেন। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক নেতারা অসহায়।

নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনে কোনো দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পরিবহন শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকার জরিমানা এবং জেলের বিধান রয়েছে। সড়কের অন্যান্য অপরাধেও অতিরিক্ত জেল জরিমানা ধার্য্য করায় ভয়ে আছেন শ্রমিকরা।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে দূরপাল্লা রুটের বাস চলাচল করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। মাদারীপুর এবং মোস্তফাপুরে বরিশাল রুটের দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। ঝালকাঠীতে বাস চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে। এসব কারণে মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর বরিশাল নগরীর নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লার কিছু রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। তারা নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন সংশোধন কিংবা বাতিল না করা পর্যন্ত বাস চালাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে, আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। দূর-দূরান্ত থেকে নগরীর নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে এসে নির্ধারিত রুটের বাস না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। তারা মালিক-শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে এবং জেলা সড়ক পরিবকহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হোসেন জানান, নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘর্মঘট কিংবা কর্মবিরতি করেননি। বিভিন্ন স্থানে বাধা এবং ভাঙচুরসহ নতুন আইনে জেল-জরিমানার ভয়ে শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। তারা বাস চালানোর জন্য কোনো শ্রমিক খুঁজে পাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকরা নিরূপায়।