ঢাকা, শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ভঙ্গুর ব্যাটিং

ঢাকাপ্রেসটোয়েন্টিফোর.কম

শনিবার ১৬ই নভেম্বর ২০১৯ দুপুর ১২:২১:৩৫

সেই সিনেমাটাই যেন অনূদিত হলো ইন্দোরের তৃতীয় দিনের সকালে। ভারতীয় পেসারদের গতি ঝড়ে চুরমার বাংলাদেশের শুরুর ব্যাটিং লাইনআপ। তৃতীয়দিন লাঞ্চে গেল বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে হারের গভীর শঙ্কা নিয়ে। স্কোরবোর্ডে রান ৪ উইকেটে ৬০ রান। তখনো ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ২৮৩ রান। সেই প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ-এমন আস্থা রাখার উপায় যে নেই!

তৃতীয়দিন সকালে আর ব্যাটিংয়েই নামেনি ভারত। ৩৪৩ রানে এগিয়ে থেকে প্রথম ইনিংস ঘোষণা দেয়। ইনিংস হার এড়ানোর বড় ঝুঁকি নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুতেই চিড়ে চ্যাপ্টা প্রায়। শুরুর তিন ব্যাটসম্যান ফিরলেন সিঙ্গেল ডিজিটে। অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন ক্যাচ দিয়ে এলেন ১৮ রানে। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের অবস্থা তখন ছন্নছাড়া।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করুণ ব্যাটিংই যেন ফিরে এল দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেও। আউট হওয়া চার ব্যাটসম্যানের কেউ পেস বোলিং সামাল দিতে পারলেন না।

ইমরুল কায়েস পরাস্ত হলেন উমেশ যাদবের গতির কাছে। উইকেটে পড়ার পর বলটা একটু নিচু হলো। কিন্তু সুইংটাই বুঝতে পারলেন না ইমরুল। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে স্ট্যাম্প উপড়ে দিল। প্রথম ইনিংসের সঙ্গে মিল রেখে শেষ ইনিংসেও ইমরুল ফিরলেন ঠিক ৬ রানে।

সাদমান ইসলামও শুরু থেকেই এই ইনিংসে ব্যাট হাতে নড়বড়ে ছিলেন। যাদব ও শর্মার জেনুইন পেস বোলিংয়ের সামনে তাকেও ভীষণ অসহায় দেখাচ্ছিল। উইকেটে সেই দুঃসময় বেশিক্ষণ অবশ্য সইতে হয়নি তাকে। ইশান্ত শর্মা দুরুন্ত গতিতে উড়ে যায় তার স্ট্যাম্প। প্যাড ও ব্যাটের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়া বলটা বেলস উড়িয়ে নিয়ে গেল। সাদমানও ফিরলেন ৬ রানে।

মুমিনুল হকের জন্য টেস্ট অধিনায়কত্বের অভিষেকটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। মুমিনুলের রক্ষণও ভেঙ্গে গেল মোহাম্মদ শামির বোলিং ঝড়ে। অফস্ট্যাম্পের বাইরে পড়া বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। প্যাডে লাগে বল। শামি আপিল করেন। কিন্তু আম্পায়ার রড টাকার সেই আপিলে সম্মত হননি। শামি রিভিউ নিয়ে লড়াইটা জিতেন। ৭ রানে এলবিডব্লু হয়ে ফিরেন মুমিনুল। ৩৭ রানে হারায় বাংলাদেশ শুরুর ৩ উইকেট।

উইকেটে এসে পাল্টা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন মোহাম্মদ মিঠুন। তবে অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই সেই অ্যাডভেঞ্চারে শেষ মিঠুনের দ্বিতীয় ইনিংস। মোহাম্মদ শামির শর্টবলে পুল করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। টানা দুই ওভারে দুই উইকেট নিয়ে শামি বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত ছেঁটে ফেলার মিশনে নামেন যেন!

লাঞ্চের আগে ক্ষতিটা আরো বাড়তে পারতো বাংলাদেশের। রোহিতের কল্যানে সেই ক্ষতি থেকে রক্ষা মিলল। দ্বিতীয় স্লিপে মুশফিক রহিমের সহজ ক্যাচ মাটিতে ফেলে দেন রোহিত। ৪ রানে জীবন পান মুশফিক।

তৃতীয়দিনের বাকি সময়টায় বাংলাদেশের ‘রক্ষণকাল’ আর কতটা দীর্ঘ হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই টেস্টের স্কোরকার্ডে আপনি আগাম ফলটা লিখে দিতেই পারেন-বাংলাদেশের বড় হার!

সেটা ঠিক কত রানে? সুনির্দিস্টভাবে জানার জন্যই এখন শুধু অপেক্ষা ইন্দোরে!

স্কোরকার্ড: (তৃতীয় দিন লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৫০/১০ (৫৮.৩ ওভারে, ইমরুল ৬, সাদমান ৬, মিঠুন ১৩, মুমিনুল ৩৭, মুশফিক ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ১০, লিটন ২১, মিরাজ ০, তাইজুল ১, আবু জায়েদ ৭*, এবাদত ২, অতিরিক্ত ৪, শর্মা ২/২০, যাদব ২/৪৭, শামি ৩/২৭, অশ্বিন ২/৪৩)।

ভারত প্রথম ইনিংস: ৪৯৩/৬ ডিক্লোয়ার্ড (১১৪ ওভারে, রোহিত ৬, আগারওয়াল ২৪৩, পুজারা ৫৪, কোহলি ০, রাহানে ৮৬, জাদেজা ৬০*, আবু জায়েদ ৩/১০৮)।