ঢাকা, শুক্রবার ১৫ই নভেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে মেঘালয়

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

শুক্রবার ৮ই নভেম্বর ২০১৯ সকাল ০৯:৩২:৫৫

ঢাকা : পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশে ভারতীয় রাজ্য মেঘালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে প্রায় দুই হাজার একর জমির ওপর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তোলা হচ্ছে। সিলেটের এই অঞ্চলটি মেঘালয়ের পার্শ্ববর্তী। মেঘালয়ের উদ্যোক্তারা চাইলে বাংলাদেশে, বিশেষ করে এই এলাকায় বিনিয়োগ করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনার্ড সাংমা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেঘালয় থেকে নুড়ি (পাথর) আমদানি করতে বাংলাদেশ নৌপথকে ব্যবহার করতে পারে। কারণ নৌপথ ব্যবহারে ব্যয় সাশ্রয় হয়। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য আরও বাড়িয়ে নৌযান চলাচল সহজ করলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক ও রেলপথগুলোকে ফের চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি যোগাযোগও শক্তিশালী হচ্ছে।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনার্ড সাংমা বলেন, মেঘালয়ে চুনাপাথর, সিমেন্ট ক্লিংকার, কয়লা ও নুড়ির মতো পর্যাপ্ত কাঁচামাল রয়েছে। তাই মেঘালয় বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও মেঘালয়ের মধ্যে কৃষি, জ্বালানি ও সংস্কৃতি বিষয়ে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ও ভারতের এই উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যটির মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে চান। সাংমা বলেন, সহযোগিতার জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে। বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে মেঘালয় ব্যবহার করতে চায় বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সাংমার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিল ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল। দলের অন্য সদস্যরা হলেন— মেঘালয়ের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী স্নিয়াওভালং ধর, শিক্ষামন্ত্রী ল্যাকমেন রিমবুই, কৃষিমন্ত্রী বেনটিওডর লিংদো, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস এবং মেঘালয়ের বিদ্যুৎ ও কৃষি বিভাগ বিষয়ক মুখ্য সচিব পি শাকিল আহমেদ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।