ঢাকা, বৃহঃস্পতিবার ১৭ই অক্টোবর ২০১৯ , বাংলা - 

আবরার হত্যায় স্যোশাল মিডিয়ায় ঝড়

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

সোমবার ৭ই অক্টোবর ২০১৯ দুপুর ০১:৩৮:০০

ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কক্ষটিতে ছাত্রলীগের নেতারা থাকতেন। তারা সবাই এখন পলাতক।এ ঘটনায় সোচ্চার হয়েছে দেশবাসী। যার যার অবস্থান সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষেরা। এ হত্যার ঘটনার পর সকাল থেকেই উত্তাল রয়েছে বুয়েট।

ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে সোমবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।এদিকে এ ঘটনায় সকাল থেকেই সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধারের দাবিতে প্রভোস্টের অফিস ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা।সেই বিক্ষোভকে সঙ্গ দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোও।

সোমবার (৭ অক্টোবর) সকালে আবরারের লাশ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ফেসবুকে নানা পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।আবরারের পরিচিত ছিলেন বোস্টন সায়েন্টিফিকের প্রকৌশলী সেলিব্রেটি চমক হাসান। আবরার ফাহাদের সঙ্গে তার পরিচয়ের স্মৃতি রমোন্থন করলেন তিনি। আবরার হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ আনেন চমক।

তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘লাশ হয়ে গেলো বুয়েটের ছেলেটা। আবরার ফাহাদ। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ২০১৭ ব্যাচ। এবার দেশে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল ওর সঙ্গে। বলেছিল, ভাইয়া আমি আপনার স্কুলে ছিলাম-কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে, এখন আপনার ডিপার্টমেন্টে।

আমার স্কুলের আমার ডিপার্টমেন্টের সেই ছেলেটা খুন হয়েছে শেরে বাংলা হলে। সন্ধ্যা ৭-৮টার দিকে বুয়েট ছাত্রলীগের একদল ছাত্র তাকে ডেকে নিয়ে গেছে।রাত দুইটার দিকে হলের সিড়িতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে তার লাশ। সংবাদ মাধ্যমে কোনও উচ্চবাচ্য নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি। সিসিটিভির ফুটেজে নাকি সমস্যা আছে বলা হয়েছে। কেউ ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করছে এইটুকু নিশ্চিত।আমি এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বুয়েটের এক ছাত্র নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি প্রশ্ন ছুড়েছেন- আবরার শিবির করে কিনা সেটা না জেনেই তাকে পেটানো হলো কেন?ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘ছেলেটা শিবির করে কিনা তা প্রমাণ পাওয়ার আগেই স্ট্যাম্পটা তুলে নিলেন?

খবর পেয়েছিলাম রাতেই। কাউকে কিচ্ছু বলিনি। কারণ আমার মেরুদণ্ড বেঁকে গেছে অনেক আগেই।এটা শুধু বুয়েট নয়, ঢাবিতে, জাবিতে অনেকদিন ধরেই চলছে। হলে থাকবেন, তারপরও নিজ মনমতো স্ট্যাটাস দেবেন, উহু তা হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্রলীগ করেছি অথচ আমার ডিপার্টমেন্টের কিছু শিক্ষার্থী শিবির করে তাদের আমি চিনি কিনা এই সন্দেহে পেটানো গেস্টরুমে গিয়েছি। কারণ আমি মাদ্রাসায় পড়েছি। আমার বন্ধু মহসিন যার চাচাত ভাই হল ক্যান্ডিডেট। সে মার খেয়েছে জাস্ট সন্দেহের বশে। আমার ল্যাপটপ/মোবাইল নিয়ে গেছে শুধু সন্দেহের বশে।.....’

এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। আবরার হত্যাকাণ্ডকে বিশ্বজিতের ঘটনার সঙ্গে মিলেয়েছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, ‘বুয়েট ছাত্র আবরারের অপরাধটা কী? আমি তো বলব আরেকটা বিশ্বজিতের ঘটনা ঘটলে। পার্থক্য হলো- বিশ্বজিতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর আবরারকে বুয়েটের হলে। এছাড়া তো আমি কোনো পার্থক্য দেখি না।

দুজনকেই শিবির সন্দেহে বর্বরভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হলো। দুজনই সাধারণ গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা। আচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে পিটিয়ে ছাত্রহত্যার অধিকার তো কেউ কাউকে দেয়নি।

কারও অপরাধ থাকলে পুলিশ, প্রশাসন আছে কেন? আমি বিশ্বজিতের মতো আবরার হত্যারও বিচার চাই। কারা এই হামলাকারী খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।’

প্রবাসী ফারাবি মাহমুদ লিখেছেন,‘আমি ছাত্র থাকা অবস্থায় স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে মাইর খাওয়ার থ্রেট খাইছি। আমার ইমিডিয়েট জুনিয়র ব্যাচের ছাত্র স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে মাইর খাইছে। আর আমার হলের ছয় বছরের জুনিয়রকে পিটিয়ে মেরেই ফেলল! জানি, বিচার নাই, তবুও বিচার চাই! চিৎকার করে বিচার চাই।’

আবরার হত্যাকাণ্ডতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে দায়ী করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর্জা তাসলিমা সুলতানা।

তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টর্চার সেলের এবং ‘মজা করার’ নামে নানান কিসিমের টর্চারের অনুমোদন কি দিয়ে রাখিনি আমরা?!’ ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিক রেজা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ও কাশ্মিরে ভারতের নানা আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সরব ছিলেন আবরার।’

উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত জাহিদ হোসেন লিখেছেন, ‘আবরার হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার ভেতর এই রাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা বেরিয়ে আসবে। দেখা যাক। চোখ খোলা থাক। দাবি থাক জোরালো অটুট।’

ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসই কাল হয়েছে দাঁড়ালো আবরারের জন্য। এমনটাই জানা গেছে এখন পর্যন্ত।একইরকম বক্তব্য পাওয়া গেছে আবরারের সহপাঠীদের কাছ থেকে। তাদের দাবি, ‘এ হত্যার বিচার করতে হবে।’

বুয়েটের শের-ই বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের ভেতর পিটিয়ে ইইই বিভাগের ছাত্র আবরার হত্যা ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

যারা আটক হয়েছেন - বুয়েটের শিক্ষার্থী বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন।