ঢাকা, সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

দেশে আইনের শাসন নেই: ড. কামাল

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

শনিবার ৭ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ রাত ০৯:৩১:৩৫

দেশে আইনের শাসন নেই অভিযোগ করে গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো পাইনি। পাইনি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র।  দেশে সুশাসন নেই, আইনের শাসন নেই। তাই দেশে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরাম আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। গণফোরামের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

 ড. কামাল বলেন, জনগণ ক্ষমতার মালিক, এ বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না। জনগণই ক্ষমতার মালিক-এটা যারা অস্বীকার করে তারা আমাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। তারা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবেই চিহ্নিত হবে। আইনের যথাযথ শাসন থাকলে জনগণ সব ক্ষমতা ভোগ করতে পারতো। সংবিধানের মূলনীতি মানলে কোনো একক ব্যক্তি ক্ষমতা ভোগ করতে পারতো না।

তিনি বলেন, সংবিধানের মূলনীতিকে কেন্দ্র করে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ’৭২ এর সংবিধানকে অনেকেই কাটছাঁট করার চেষ্টা করেছিল। পরে তারা স্বৈরশাসক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, জনগণের ঐক্যের কারণে আমরা এখনো রক্ষা করতে পেরেছি আমাদের সংবিধান।  

তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো পাইনি। পাইনি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র।  দেশে সুশাসন নেই, আইনের শাসন নেই। তাই দেশে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গত ৫০ বছরে দেশের জনগণ সুশাসন পায়নি। তবে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতন্ত্রে বিরোধীদল ও বহুদল থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের সংবিধানের মূলনীতির ব্যাপারে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আজ ভোটাধিকার নেই। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। সব আজ কলুষিত।

তিনি গণফোরামের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শুধু ঐক্যবদ্ধ হলেই হবে না, ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমিও রাজপথে রক্ত দিতে প্রস্তুত।

 জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র চায় কেবল বিরোধী দলে থাকলে, সরকারে গেলে তারা কায়েম করে স্বৈরতন্ত্র। আওয়ামী লীগ এমন একটা দল যাদের কোনো আত্মসমালোচনা নেই। শুধু আছে অন্যের অবদান অস্বীকার করা। অন্যকে তুচ্ছ করা। আর দোষারোপ করা। তারা বিরোধী দলে থাকলে চায় গণতন্ত্র, সরকারে থাকলে স্বৈরতন্ত্র। বিরোধী দলে থাকলে তত্বাবধায়ক, সরকারে থাকলে দলীয় সরকার।

আলোচনাসভার মঞ্চে ড. কামাল হোসেনসহ অতিথিরা। ছবি: শাকিল আহমেদতিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নিতে আদর্শ কোনো বাধা হয় না যাদের, সেই দলের নামই আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ রাতে ভোট ডাকাতি করে গিনেস বুকে ঠাঁই নিয়েছে। আওয়ামী লীগ একটা বিপজ্জনক সরকার, তাদের বিদায় করতে হবে। কারণ দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

 নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গত ৪৮ বছরেও এমন শাসক ক্ষমতায় আসেনি। এই সরকারের লজ্জা নেই, চোখের চামড়া নেই। এই সরকার জনগণের কোনো কাজেই আসবে না। তাই এই সরকার সরাতে কী করতে হবে তা চূড়ান্ত করতে হবে। আমরা রাস্তায় নামিনি, জনগণ দেখছেন। ভবিষতে বড় ঐক্য করে বড় সংগ্রামের রাস্তায় নামতে হবে।

 গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে আমি রাজপথেই মরতে চাই। ড. কামাল হোসেন তার ওপরে জাতির অর্পিত দায়িত্ব অসমপূর্ণ রেখেছেন। ড. কামাল হোসেনকে রাজপথে নামতে হবে। রাজপথে প্রতি একঘণ্টা প্রয়োজনে আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো। সরকার সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না ঠিকই। তাতে কী? ড. কামাল হোসেনকে অবশ্যই রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে আসতে হবে। পরে কী হবে জানি না। তবে রাজপথে মরতে চাই।

 বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারবিরোধী জোট বা মোচ্চার বা ফ্রন্টের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা চাই। সরকার সরিয়ে ক্ষমতায় এলে কী কী করবে ভবিষ্যতে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য চায়। অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা ভবিষ্যতে এসে কী আচরণ করবেন, সামনে কী থাকবে সব ব্যাপারেই জনগণ পরিষ্কার ধারণা জানতে চায়।

 গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, এ সরকার হুমকি-ধামকি ভয় দেখিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা ভাবছে এতে কাজ হবে। আসলে তারা জানে না তাদের অবস্থা কতো খারাপ। এভাবে আওয়ামী লীগ চলতে পারবে না। একদিন তাকে ক্ষমতা থেকে সরতেই হবে। তবে এদের সরাতে জনগণের সংগ্রাম দরকার।

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নূরুল হক নূর বলেন, আজকে জাতি হতাশ। এ হতাশার জন্য আওয়ামী লীগ একাই দায়ী নয়, গণফোরামের মঞ্চে যারা উপস্থিত আছেন এবং পূর্ব-পুরুষেরা যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন তারাও সমানভাবে দায়ী। আমি ডাকসুর ভিপি হয়ে কোথাও যেতে পারি না। গ্রামে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্থা হতে হয়। নিরাপদ সড়ক চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়। যে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ’৯০ এর দশকে আন্দোলন করা হয়েছিল তারা আজ বিরোধীদলে। আজকে দেশে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার বলে কিছু নেই। এসব থেকে রক্ষা পেতে হলে একইমঞ্চে এসে কথা বলতে হবে।

আলোচনা সভায় গণফোরামের অন্য নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ড. রেজা কিবরিয়া, মেজর জেনারেল আ ম সা আ আমিন (অব.), মোশতাক আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।