ঢাকা, সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

রবিবার ১৮ই আগস্ট ২০১৯ সন্ধ্যা ০৭:৫৭:৩৮

সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বর্ষা মৌসুম শেষেই যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এখনই ‘পেপার ওয়ার্ক’ করে রাখার কথাও বলেন তিনি।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই দপ্তরের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) বিরাট ভুমিকা রয়েছে। কারণ সমস্ত কিছু কিন্তু এখানে আসে, এখান থেকে যায়। এ বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।’

‘আমাদের এই দপ্তর (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) থেকেই... যেহেতু আমাদের একটা ভালো সেটআপ আছে। সেখান থেকেই কিন্তু একটু নজরদারি বাড়াতে হবে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ে; যে তারা মিটিং করে তাদের অগ্রাধিকার ঠিক করে নিয়ে, কোন কাজগুলো আমরা দ্রুত করতে পারি।’

বিভিন্ন প্রকল্পের পেপার ওয়ার্ক এখনই করে রাখার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাগজে-কলমে যে কাজ সেটা আগে শেষ করা, প্ল্যান প্রোগ্রামের কাজ সব শেষ করা, যেন আসল কাজটা; ফিজিক্যাল ওয়ার্ক যেটা, সেটা যেন আমরা বন্যা, বর্ষা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন কাজ শুরু করতে পারি। সেভাবে আমাদের প্রস্তুতি নেওয়া। সেদিকে বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দেওয়া, যাতে এবারের বাস্তবায়নও আমরা আগের মতো সঠিক সময়ে করতে পারি।’

‘আমাদের বাজেটটা কিন্তু এমন সময় দেওয়া, বাজেটটা দেওয়ার পর যে বর্ষাটা আসে এই সময় যত পেপার ওয়ার্ক, পরিকল্পনা নেওয়া সেগুলো করা। আর একেবারে আমরা যদি এখন থেকে তৈরি থাকি যখনই বর্ষাকালটা চলে যাবে তখনই আমরা কিন্তু মূল কাজ শুরু করতে পারবো। সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার মূল সময় কিন্তু এই সময়টা।’

দারিদ্র্য বিমোচনে প্রতিটি এলাকায় খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে বলবো, আমাদের অফিস থেকে প্রত্যেকটা এলাকায় খোঁজ নেওয়া দরকার। ডিসি কনফারেন্সে বলে দিয়েছি যেকোনো এলাকায় কেউ ভিক্ষা করবে ‍না। কোনো এলাকায় কেউ গৃহহারা থাকবে না। যেখানেই গৃহহারা মানুষ পাওয়া যাবে তাদের ঘর তৈরি করে দিতে হবে।’

দারিদ্র্য বিমোচনে সফলতা এবং তা আরও কমানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্যের হার আজকে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এটাকে আরও কমাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমার একটা লক্ষ্য আছে, যে দেশ শুধু আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতাই করে নাই, বলেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে কি হবে- এটা একটা বটমলেস বাস্কেট হবে। সেই দেশটা থেকেও যেন আমাদের দারিদ্র্যের হার কমে। এক শতাংশ কম হলেও কমাতে হবে। এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। তারা উন্নত দেশ হতে পারে। কিন্তু আমরা যে পারি সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হবে।’

‘সেক্ষেত্রে আমাদের এই দপ্তরের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কারণ সমস্ত কিছু কিন্তু এখানে আসে, এখান থেকে যায়। এ বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।’

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে সরাসরি বলতে পারেন। একটা কথা বলি আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী নই, আমি কিন্তু জাতির পিতার কন্যা। আমি মনে করি দেশের প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে, কর্তব্য আছে।

‘যেখানে এই যে প্রধানমন্ত্রী হয়েছি প্রটোকল বাধা সৃষ্টি করবে, সেটা আমি কখনো মানি না, মানতেও চাই না। আমি চাই সকলের সাথে মিশতে, জানতে, আমরা সকলে একটা টিম হিসেবে কাজ করবো যাতে দেশের উন্নয়নটা ত্বরান্বিত হয়।’প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার সরকারের নেওয়া ‘ঘরে ফেরা’, ‘শান্তি নিবাস’ এবং ‘অবসর’ কর্মসূচিগুলো চালু রাখার কথা বলেন।

সবাইকে কাজের প্রতি যতœবান হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করেছি। এরপর আরো যত উপরে ওঠার চেষ্ট করা হবে অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই তা দুরূহ হবে। এখন কিন্তু অত দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে না, অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ীই এটা হয়ে থাকে। আর এর থেকে যেন পিছিয়ে না যাই সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।


অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মসিউর রহমান এবং ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।


অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।