ঢাকা, সোমবার ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

মানুষের কথা বলায় আ’লীগকে বার বার আঘাত

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

সোমবার ২৪শে জুন ২০১৯ রাত ১০:০২:৪৯

জনগণ এবং দেশের কথা বলে বারবার আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর অনেক আঘাত এসেছে, নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ মানুষের কথা বলে। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেউ দমাতে পারেনি, আওয়ামী লীগ টিকে আছে। দলের ওপর যত বেশি আঘাত এসেছে, আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই বাংলাদেশ ও বঙ্গভূমির একটা যোগসূত্র আছে। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন স্বাধীনতা হারায় বাংলা। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ব্রিটিশ বেনিয়ারা এই ভূখণ্ড শাসন করেছে, মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে। আমরা জানি এই মীরজাফর একটা গালিতে পরিণত হয়েছে। এরপর দুইশ’ বছর শাসন করেছে ব্রিটিশরা।

‘সেটাও ছিল ২৩ জুন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। এই আওয়ামী লীগই এই ভূখণ্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছে এই আওয়ামী লীগ সরকারই। সাড়ে সাত কোটি মানুষ, এর মধ্যে এক কোটি শরণার্থী, তিনকোটি মানুষ গৃহহারা। তাদের অন্ন, বস্ত্র নিশ্চিতে বঙ্গবন্ধু নানা পরিকল্পনা হাতে নেন।’

 আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে জানা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, তিনি অত্যাচার-নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৫৭ সালে ভাসানী দল ভেঙে ন্যাপ গড়ে তুলেন। এই সময়ে বঙ্গবন্ধু মন্ত্রী ছিলেন। তখন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরেছেন। দলকে সংগঠিত করেছেন।মুক্তিযুদ্ধে নেতাকর্মীদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি আছে, তা খুঁজে খুঁজে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পরও অত্যাচার-নির্যাতন থেমে থাকেনি। ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে। তবে শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনও ভেঙে পড়েনি।

‘বরং আওয়ামী লীগের ওপর যত বেশি আঘাত এসেছে, আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে। হীরা যেমন যত বেশি কাটা হয় তত বেশি উজ্জ্বল হয়, আওয়ামী লীগও তেমন। আর এর পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের মানুষের জন্য কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতীক্ষা। এ জন্যই আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে টিকে আছে।

সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আলোচনা সভায় অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।