ঢাকা, সোমবার ১৯শে আগস্ট ২০১৯ , বাংলা - 

শাবান-সানি জুটি এবং সখ্যতার ৩৫ বছর!

সোহেল সানি

বুধবার ২৯শে মে ২০১৯ রাত ১০:২৯:৫১

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটলের উপরোক্ত উক্তিটি মাঝেমধ্যে আমার স্নায়ুতন্ত্রে ঝাঁকুনি দেয়। অনেকেই আমার পেশাগতজীবনের সুখদুঃখ নিয়ে একধরনের আপসোস করেন।আপসোসের তালিকায় দুটিশ্রেণীর লোক আছেন। কেউ সত্যিকার অর্থে আমাকে ভালোবেসে। অপরটির আপসোস নেহাৎ উস্কানীমূলক। এরা আমার বুকেরপাটায় টিপ্পনীর তীর ছুঁড়ে মাড়ার জন্য যেন ‘আপসোস’ ব্যাধিতে ভোগেন।

দরদীকন্ঠে তাদের উচ্চারিত হয়- “শাবান মাহমুদ আজ কোথায় অবস্থান করছেন আর আপনি কোথায় পরে রয়েছেন ?”এরকম প্রশ্নবানে জর্জরিত করার ঘটনা নিত্যদিনের।ফেইসবুকে তাই একটা স্টাটাস দেয়ার মনস্থ করলাম অবশেষে।

মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারায় আমি এখনও পরিপূর্ণ সবল। হতাশার চাদর জড়াতে পারেনি আমার গায়ে। আমার সংবেদনশীল অস্তিত্ব আমি অনুভব করি। তারপরও সমালোচক বা গুরুজনদের কথা ভ্রুক্ষেপহীন হয় কি করে?

আমার সর্বশেষ কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটা গল্পস্বল্প দিয়ে শুরু যাক। এতে আত্মতুষ্টির চেয়ে আত্মসমালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।  দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম। সাংবাদিক ঘরনার আড্ডায় আমাকে শরীক হতে দেখলে স্নেনাতুর ভালবাসায় কিছুনা কিছু বলেন। যা আমার মানসপটকে আলোড়িত করে। তাঁর মনোগ্রাহী উক্তিগুলো গতি কয়েকদিন ধরে খুব বেশী মনে পড়ছে। “সোহেল সানি নিজেই নিজেকে বঞ্চিত করেছে, কেউ তাকে বঞ্চিত করেনি। সুপ্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হওয়ার সকল গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও নিজেকে অন্ধকারে রেখেছে।” এ সকল কথা শ্রদ্ধাভাজন নঈম নিজামের।

আমি আশ্বস্তহীনতার বেড়াজাল ছিন্ন করে আশার সঞ্চার করতে পারবো কিনা সেটা নিয়েও তাঁর সন্দেহের উদ্রেক রয়েছে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী গুরুজনদের। শ্রদ্ধেয় নঈম নিজাম আমার শুভাকাঙ্ক্ষী গুরুজনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব। তিনি ভীষণ আমার ওপর যতটা না নাখোশ তার অপেক্ষা বেশী মর্মাহত। কারণ যর্থাথ। তিনি আমাকে সার্বক্ষণিক রিপোর্টার হিসাবে বিশাল সম্ভাবনার দূয়ার খুলে দিয়েছিলেন। এখনও আপন সহোদরের ন্যায় অসামান্য স্নেহাতুর বন্ধনে বেঁধে রেখেছেন। কিন্তু তিনি আর সুবিশাল সম্ভাবনার জাগরণ আমার ভেতরে দেখছেন না। কেননা তিনি আঁচ করে ফেলেছেন যে, আমার ভেতরে ফাঁকিবাজি একপ্রকার ভাইরাসজনিত সংক্রামিত ব্যাধি। অথচ, তিনিই আমার জন্য কর্মস্থলে সর্বোচ্চ সুযোগসুবিধামূলক এক আইন কবুল করেছিলেন। কিন্তু এ অশেষ স্নেহময়তার সুমহান মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারিনি আমি। বরং নিত্যনতুন অজুহাত প্রদর্শণ করে ক্রমে নিজের অবস্থানকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করেছি। প্রকারান্তরে যা ছিলো আমার নিজের সাথে নিজের প্রতারণা।

অফিসবিমুখতা কাটানোর জন্য আমার দোস্ত শাবান মাহমুদও চেষ্টা করেছেন অকৃপণভাবে। দিনের পর দিন কাঁধে কাঁধ রেখে কর্মস্থলে নিয়ে যেতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু একটা পর্যায়ে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে দোস্তের আশা ছেড়ে দিয়ে “এ-ক-লা চ-ল-রে” সেই রবীন্দ্রনীতি অনুসরণ করেছেন। শাবান মাহমুদ আজ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব। মানে সাংবাদিক সমাজের মুখ্যনেতা। শাবান মাহমুদ এতকিছুর পরেও সাম্প্রতিক আমাকে কর্মমুখীকরণের নতুন স্বপ্ন দেখছেন। আমাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ প্রেরণায় প্রভাবিত করার জন্য প্রায়শই সাথে রাখছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাকালীণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় শাহজাহান সরদার আমার লেখনীশক্তি এবং পলিটিকাল রিপোর্টিং সোর্স সম্পর্কে বরাবরই আশাবাদী ছিলেন। তিনি রিপোর্টারদের প্রথম মিলনমেলায় বলেছিলেন,

“সোহেল সানি’র যুগান্তরেই সহকর্মী হওয়ার কথা ছিলো, কোনো একজনের বিরোধিতায় তা সম্ভব হয়নি (আমি জানলেও তাঁর নাম প্রকাশ করছি না)। এখন থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিন তার কাছ থেকে সেরা রিপোর্টিং প্রত্যাশা করছে।

আমার অনিয়ম বাংলাদেশ প্রতিদিনের শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। শাহজাহান সরদার ও নঈম নিজামের মতো শ্রদ্ধেয় প্রথিতযশা সাংবাদিক সম্পাদক এখনও বলেন, “সোহেল সানি ফাঁকিবাজ না হলে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ রিপোর্টার হিসাবেই প্রতিষ্ঠালাভ করতো।

দুই গুনীমান্যি সম্পাদকের মন্তব্যের প্রতিফলন দেখতে পেয়েছিলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক বছর পূর্তি’র বিশেষ ক্রোড়পত্রে। তাতে দেখা যায়, প্রথম বছর লিড স্টোরির দিক থেকে আমার অবস্থানই শীর্ষে। ২০০৯ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম দিন। ওদিন শীর্ষ কলামে প্রকাশিত হয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে ঘিরে লেখা আমার একটি সাক্ষাতকারমূলক প্রতিবেদন। দ্বিতীয় দিনে তোলপাড় শুরু হয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের একটি সাক্ষাতকারকে কেন্দ্র করে। লিড স্টোরি রুপে প্রকাশিত ওই সাক্ষাতকারটির শিরোনাম ছিলো -” সৈয়দ আশরাফ ব্যর্থ বললেন জলিল।”

উপ সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন প্রথম আলো থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনে যোগ দিয়েছিলেন। তিনিও আমার রিপোর্টিং সক্ষমতা সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করে বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন।

চিফ রিপোর্টার পথিক সাহার অকাল ও আকষ্মিক মহাপ্রয়াণের পর শূন্যতাপূরণ আমাকে দিয়েই করতে চেয়েছিলেন। সহকর্মীদের রিপোর্টও দেখাতে শুরু করেছিলেন আমাকে দিয়ে। এও বলেছিলেন সোহেল সানি রেগুলার হলে বাইরে থেকে চিফ রিপোর্টারের প্রয়োজন হতো না।

সত্যিকার অর্থে সবাই চাইলেও কার্যত আমি চাইনি। এটা গৌরবের কথা নয়, বরং চরম ব্যর্থতা ও লজ্জাস্কর কথা।

নির্বাহী সম্পাদক শ্রদ্ধেয় পীর হাবিবুর রহমানও সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছিলেন আমাকে অফিসমুখো করতে। রাজনীতির কিংবদন্তীতুল্য মহান নেতাদের সুখদুঃখের গল্পধর্মী লেখনীগুলো আমাকে দিয়ে লেখাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম কলামটি আমাকে দিয়ে লিখিয়ে বেশ পাঠকপ্রিয় করে তুলেছিলেন। বর্তমান প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক কবি জাফর ওয়াজেদের পরামর্শে বাংলাবাজার পত্রিকায় (১৯৯৬ সালে) আমাদের দুই দোস্তকে চাকুরি পাইয়ে দিয়েছিলেন পীর হাবিবুর রহমান। বলা বাহুল্য যে, সেই সময়ের সাড়াজাগানো একমাত্র রঙীন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় ২৮টি লিড স্টোরি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের রেকর্ড রয়েছে আমার। ১৯৯৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। ওই বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে আমার একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে।

বাংলাবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ওই সাক্ষাতকারটির শিরোনাম ছিলো -” শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তির নামে ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেনঃ সরকার দলীয় এমপি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।” প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “পাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়।” ১৯৯৯ সালের ২২ জুন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী জিল্লুর রহমান নাম প্রকাশ নাম করার কথা বলে আমাকে জানান যে কাল ২৩ জুন কাদের সিদ্দিকী বহিষ্কার হচ্ছেন। অবশ্য একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডাঃ এস এ মালেকও আমাকে ফোনে একই খবর দিয়েছিলেন। আমি হুবহু এই কথাটিকে শিরোনাম করে একটি লিড স্টোরি উপহার দেই বাংলাবাজার পত্রিকাকে। কাদের সিদ্দিকী বহিস্কৃত হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য পদ হারিয়ে পত্রিকা অফিসে হাজির হন। তিনি মাননীয় সম্পাদক মোহাম্মদ জাকারিয়া খানের কক্ষে গিয়ে আমার সন্ধান করেন। সম্পাদক ডেকে পাঠালে আমি উপস্থিত হই। মূহুর্তে বঙ্গবীর আমার হাতটিতে চুমো বসিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ভারাক্রান্ত কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের ব্যবহারে আমি ভীষণ মুগ্ধ হই। আমি এ সাফল্যের সুবাদে সিনিয়র রিপোর্টার পদে পদোন্নতি লাভ করি। তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদের স্নেহপ্রীতির কথা জীবনে আমি ভুলতে পারবো না। নেতাকর্মীদের সুখদুখমাখা কথা ধৈর্য্য ধরে শ্রবণ করার মতো নেতা তিনি ছাড়া আওয়ামী লীগে কেইবা ছিলেন? বঙ্গবন্ধু সরকারেরও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ। ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রথম শ্রম সম্পাদক। আমার জীবনসংগ্রামে তাঁর অবদান সর্বাপেক্ষা বেশী। তাঁর মাধ্যমেই আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্নেহধন্য হয়ে উঠি। মূল কথায় আসি বিল ক্লিনটন আসছেন বাংলাদেশে দিনক্ষণ উল্লেখ করে একটি লিড স্টোরি প্রকাশিত হলো আমার নামে। সূত্র ছিলেন আমার চিরশ্রদ্ধাভাজন আব্দুস সামাদ আজাদ। তিনি এতটা,আমাকে ভালোবাসতেন যে এই বিরাট খবরটি ওদিন আর কাউকে দেননি। ফলে আমি হিট হয়ে গেলাম। কুটনৈতিক প্রতিবেদক না হয়েও এ রিপোর্ট করা এবং তা ফলে যাওয়ায় আমি সিনিয়র রিপোর্টার থেকে পদোন্নতি পেয়ে বিশেষ প্রতিনিধি হলাম।

কদিন আগে সাংবাদিক গবেষক সুভাষ সিংহ রায় কয়েকজন সাংবাদিককে বলছিলেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তৎকালীণ বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা একটি মাত্র সাক্ষাতকার প্রদান করেন। ওই সাক্ষাতকারটির গ্রহণকারী সোহেল সানি এবং প্রকাশকারী বাংলাবাজার পত্রিকা। ২০০২ সালের ২০ জুন শেখ হাসিনার ওই বিরাট সাক্ষাতকারটি প্রকাশিত হয় আমার নামে। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা ও জগন্নাথ হলের ভিপি সুভাষ সিংহ রায়ের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমার ফাঁকিবাজি নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ ছিলেন আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নাঈমুল ইসলাম খানও। দৈনিক আমাদের সময় প্রতিষ্ঠাকালীণ থেকেই আমরা দুই দোস্ত যোগ দেই। আমার অনিয়ম ছিলো ওখানেও। আমার রিপোর্টিং সক্ষমতা মাথায় রেখে আমাদের সময় সম্পাদক শ্রদ্ধেয় নাঈমুল ইসলাম খান বললেন তুমি অতিথি প্রতিবেদক হিসাবে বিশেষ রিপোর্ট করতে থাকো তোমাকে ভালো সম্মানী দেয়া হবে। ওয়ান ইলেভেনের সময় যখন নেতানেত্রীদের ধরপাকড় চলছে তখন আমি তথ্যভিত্তিক একটি রিপোর্ট লিখলাম। আমাদের সময় আট কলাম জুড়ে শিরোনাম দিলো ” রাজনীতিবিদদের সাজা হয় কিন্তু ভোগ করতে হয় না।” ভোর বেলায় ফোন পেলাম দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীণ কুটনৈতিক প্রতিনিধি শ্রদ্ধেয় আলমগীর হোসেনের। পরবর্তীতে বসুন্ধরা গ্রুপের বাংলা নিউজের সম্পাদক পদে আসীন হওয়া তুখোড় সাংবাদিক আলমগীর হোসেন সেদিন টেলিফোনে আমার রিপোর্টের অফুরান প্রশংসা করে বলেছিলেন, “অসাধারণ এ রিপোর্ট তোমার পক্ষেই কেবল করা সম্ভব।” আমাদের সময় আরও একটি রিপোর্ট আওয়ামী লীগকে তোলপাড় করে। ২০০৭ সালের শেষের দিকে। সেনা সমর্থিত ডঃ ফখরুদ্দিনের শাসনামল চলছিল। আমি রিপোর্ট করলাম “আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদের দাম দুটি পেরাডো গাড়ির সমান। সোর্স আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকুল বোস। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী তাঁকে বিদেশে চলে যেতে হুমকি দিচ্ছেন একটি স্পর্শকাতর গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বাসায় পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও কথা জানান মুকুল বোস। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কারাগারে এবং দুই নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লন্ডনে। তিন নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মুকুল বোস ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। অতএব তিনি বিদেশে চলে গেলে গণতন্ত্র অনুযায়ী এক নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক সাবের হোসেন চৌধুরী ক্রমানুসারে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হতে পারেন। মুকুল বোসের সরাসরি বরাত দিয়ে আমাদের সময় আমার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। আওয়ামী লীগ প্রধান ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাবার পর শপথগ্রহণের দিনই সাবের হোসেন চৌধুরীকে তাঁর রাজনৈতিক সচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেন। কিছুদিনের মাথায় দলের কাউন্সিল হলে খোয়া যায় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও। বর্তমান সাবের হোসেন চৌধুরী সাধারণ সদস্য। উপদেষ্টা পরিষদেও স্থান হয়নি। ওয়ান ইলেভেনের আগে পরে আমি আমাদের সময় ও বাংলাবাজার পত্রিকা দুটোতেই কাজ করতাম। বাংলাবাজার পত্রিকায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ১২/১৪ ঘন্টা আগেই একটি বিশেষ প্রতিবেদনে আগাম খবর প্রকাশ করেছিলো। কামান সদৃশ্য ছবি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছিলো “রাষ্ট্রপতি ডঃ ইয়াজউদ্দিন আহমেদ প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে না দাঁড়ালে গণতন্ত্র রক্ষায় হস্তক্ষেপ করবে সেনাবাহিনী।”

ক্ষমতা দখল নয়, সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানই সেনাবাহিনীর লক্ষ্য। আমার ওই রিপোর্টটির শুরুর প্যারাটাই তুলে ধরা হলো। বঙ্গভবন এ রিপোর্ট নিয়ে মাথা না ঘামালেও বিকেল চারটায় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর থেকে আমার মোবাইলে বিভিন্ন পরিচয়ে কল আসতে থাকে। রাত বারোটায় যখন আমাদের,সময় থেকে বাসায় ফিরছিলাম তখনই হামলার শিকার হই দূর্বৃত্তকারী দ্বারা। মৃতপ্রায় আমার দেহটা খিলগাঁও ফ্লাইওভারের একাংশে অবস্থিত ডাষ্টবিন থেকে নাকি ভোর রাতে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে আসা কতিপয় যাত্রী আমাকে আবিষ্কার করে এবং সবুজবাগ থানা খবর দেয়। ১৪ ব্যাগ রক্ত দিতে হয় নাকি আমার দেহে। রক্তদানকারীদের মধ্যে পুলিশ থাকলেও এ হামলার বিষয়ে মামলা দূরে থাক থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও করা যায়নি। এরপরের দুঃসহ স্মৃতির কথা একটু পরে লিখছি।

আবারও ফিরছি বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রসঙ্গে। পত্রিকাটির উপ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মাহমুদ হাসানের আশাতীত সহায়তা আমার রিপোর্টিংকেই সমৃদ্ধ করে তুলতো। যাহোক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রায় ছয় বছরের চাকুরী ছিলো তারপরি ফাঁকিবাজির বছর।

আসলে কখনো চাকুরী আমাকে ছাড়েনি, আমিই চাকুরী ছেড়েছি এবং তা না যেতে যেতে।

তারপরও শ্রদ্ধেয় নঈম নিজাম আমাকে ফেলতে পারেননি। আওয়ামী লীগের সর্বকালের শ্রেষ্ঠতম সর্বশেষ কাউন্সিল উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমাকে দিয়ে লেখালেন ঐতিহাসিক একটি লেখা। “রোজ গার্ডেন থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান” শীর্ষক লেখাটি পড়েছেন কোটি পাঠক।

শুধু তাই নয়, তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল “নিউজ ২৪”- এ কয়েক দফা এককভাবে আমাকে – ষরাব – হাজির হওয়ার সুযোগ দেন। আওয়ামী লীগের সুকঠিন ইতিহাস বলার জন্য।

নঈম নিজাম ভাই মনচিত্তে দৃশ্যমান চিরন্তনের কৃতজ্ঞতায়।

শুধু পাঠ করে শুধু নয়, ইতিহাস আমার মনপ্রাণে দৃশ্যমান হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরদের সান্নিধ্য লাভ করার সুবাদে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ আমাকে সমৃদ্ধ করেন সেকালের ইতিহাস জানিয়ে।

আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানের অতি স্নেহসান্নিধ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলাম। তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আমাকে তাঁর এপিএস হতে বলেছিলেন। শপথগ্রহণের পরক্ষণেই শাবান মাহমুদকে বলেছিলেন, “তোমার দোস্ত সোহেল সানিকে আসতে বলো, আমি ওকে এপিএস করবো।” মহামান্যকে আমি বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করেছিলাম আমি।

আমির হোসেন আমু যখন আওয়ামী লীগে “রাজনীতির কিং মেকার” বলে পরিচিত সেই সময়েই আমি তার অতিশয় প্রিয়ভাজন ছিলাম। তাঁর লোক বলেই আমাকে সবাই জানে। তিনিও ইতিহাস জান্তা। তাঁর আপন সান্নিধ্য আমার ইতিহাস জানার ক্ষেত্রকে নানাভাবে প্রসিদ্ধ করেছে।

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ ইতিহাসের অন্ধ চোখ খুলে দেন। তার অফুরান স্নেহময় ভালোবাসায় আমাকে আবদ্ধ করে। প্রবীন জননেতা আব্দুল জলিল ও আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও কর্মীবান্ধব নেতা। মোজাফফর হোসেন পল্টুর স্নেহপ্রীতি আমাকে রাজনীতির বহু সূত্র আবিষ্কারে সাহায্য করেছে। ছাত্রলীগের এককালীন সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন , ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান, ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে

আমি এই লেখনীর মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বরিশাল – ২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহে আলমের প্রতি। কেননা তার হাত ধরেই আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি।

আওয়ামী যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাইয়ের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। তিনিই মূলত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই দিয়েছিলেন আমাকে ও শাবান মাহমুদকে। ইতিহাসধর্মী লেখনী শুরু প্রারম্ভে এসব মহান নেতার নাম শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ না করলে অকৃতজ্ঞতা জানানো হবে।

যাহোক ফিরে আসামি মূল কথায়। এবার জীবনের শেষবেলায়,এসে ভাবছি বসে। আমার ফাঁকিবাজির দিন শেষ হওয়া দরকার। শুরু থাকলে শেষ হবেই। ই প্রত্যয় যুক্ত করলাম এই কারণে যে, এর বিকল্প নেই। বিকল্প হতে পারে কেবলই মৃত্যু। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অর্থাৎ বহুল বিতর্কিত ওয়ান ইলেভেনের দিন রাতে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা আমি গুরুতর আহত হওয়ার পরও আল্লাহর অশেষ কৃপায় বেঁচে যাই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য “আজ সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে পারে মর্মে আগাম খবর দেয়ার কথা আগেই লিখেছি।

ওই রাতে হামলা চালিয়ে বিশেষ একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার বাম পায়ের প্যাটেল কেটে ফেলে। এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও আজও আমার পায়ে রডযুক্ত রয়েছে। পাঁচ বছর লাঠি ভর করে আমার পথ চলতে হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, সেই থেকে এ পর্যন্ত আমার ওপর চার বার হামলা হয়েছে। সর্বশেষ্ঠ হামলায় আমার পিএ বাবু ও চালক নিহত হলেও আমি আল্লাহর অসীম রহমতে প্রাণে বেঁচে যাই। এভাবেই ছন্দপতন ঘটে আমার ক্যারিয়ারে।

সম্প্রতি বৈশাখী টেলিভিশনের দিকপাল অশোক চৌধুরীর কিছু কথা মনের দরজায় হঠাৎ কড়া নাড়লো। তাঁর গাড়ীতে বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে বনানীতে যাচ্ছিলাম। সাথে বিএফইউজে’র মহাসচিব শাবান মাহমুদও। অশোক দা’র অতিশয় প্রিয় শাবান মাহমুদ।

আকষ্মিক অশোক দা’ খুব আপসোস করলেন আমাকে নিয়ে। বললেন ” সোহেল সানি ঘুরে দাঁড়ান এখনও সময় আছে। সাংবাদিকতায় একসময় স্টার ছিলেন। নিজেই নিজেকে নিঃশেষ করলেন। সহযোগিতার হাত আপন ভাই বাড়ায় না।” ইত্যাদি বলার পর আরও বললেন, শাবান মাহমুদ ভাই আপনাকে ভালোবাসেন। প্রকৃত বন্ধু সে। আপনি ঠিক হোন, সব আবার ঠিক হয়ে যাবে। অশোক চৌধুরীর সরল, সহজ, সাবলীল আচরণ ও কথাবার্তা ভালো লাগলো। কয়টা কটু কথা বললেও হয়তো প্রতিক্রিয়া হতো না।

অথচ, কেউ কেউ খোঁচা মেড়ে বলেন। মজা লুফে নিতে চান। তখন আমার এরিস্টটলের ওই উক্তিটার কথাই স্মরণে আসে।

যাই হোক, আমি হিংসুক হতে পারবো না। কারণ আমি বিদ্যানুরাগী। অপরদিকে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, শত ফাঁকিবাজির মাঝেও আমি বইয়ের সান্নিধ্যছাড়া হয়নি কখনো।

দীর্ঘদিন ধরে লিখেছি। ” রাজনীতির পৌনে ষোলোআনা” নামে একটি রাষ্ট্রগ্রন্থ আমি উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ। আমি নতুনভাবে শুরু করেছি। নবাগত স্যাটেলাইট চ্যানেল এস টিভি বাংলার সম্পাদক হিসাবে কাজ করছি। পুরাণ ঢাকাসহ দেশের ৫৪ টি জেলা সম্প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেলটির কার্যক্রম।

এই মূহুর্তে দার্শনিক মার্ক কার্লাইলের একটি উক্তি মনে পড়ছে। তিনি বলেছেন “কারো কীর্তিকে পেছনে ফেলতে হলে কীর্তি দিয়েই ফেলতে হয়, হিংসা বিদ্বেষ, হত্যা ধ্বংস করে নয়।”

শাবান মাহমুদ নিরলসভাবে এগিয়ে চলেছেন। তার সুফল তিনি পেয়ে আজ সাংবাদিক সমাজের কাছে নন্দিত নেতা। সাংবাদিক বান্ধব নেতা হিসাবেও তার পরিচিতি গড়ে উঠেছে। তিনি এখন আমারও নেতা। আমাদের নেতা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দুবন্ধুর কাছেই মাতৃতুল্যা। মাতৃত্বের স্নেহে আমরা আবদ্ধ হই আরও দুই দশক আগে। প্রথম আলোর সাবেক চিফ রিপোর্টার শ্রদ্ধেয় প্রণব সাহা ফেইসবুকে আমাদের দুই বন্ধুর ছবি দেখে দারুণ প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের মিঠু-মন্টি।”

এই মিঠু-মন্টি ডাকটা আসলে মাননীয় আপার মুখ থেকে আসা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দুজনকে এ নামে ডাকাই শুধু নয়, আওয়ামী লীগের প্রচার প্রচারণার কাজে আমাদের সংযুক্ত করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য করেছিলেন। ওটাই ছিলো আওয়ামী লীগের ২৯ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম উপকমিটি। আমাদের বেকার দশা দেখে তিনি তৎকালীন ১২/,এ কার্যালয়ে বসাবার জন্য তৎকালীন প্রচার সম্পাদক আবদুল মান্নান ভাইকে নির্দেশও দিয়েছিলেন। পরে আপা আমাদের চাকুরীতে থাকারই সিদ্ধান্ত দেন। তবে তাঁর বিভিন্ন সময়ে অর্থসাহায্যের কথা কখনোই ভুলবো না।

আমাদের দুই দোস্তকে নেতা-মন্ত্রীরা এমনকি সাংবাদিকরাও বলেন “মানিকজোড়।” কার্লাইলের ভাষায় “বন্ধুত্ব হলো দুটি দেহে বসবাসকারী একটি আত্মা। ” শাবান মাহমুদ ও সোহেল সানি বিগত ৩৫ বছরে তা প্রমাণ করেছে।

কখেেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল আবার কখনো হাঙ্গামা গোলাগুলির মুখে হল ত্যাগ করে পত্রিকার অফিসে দুবন্ধু কতশত রাত কাটিয়েছি তার হিসাব নেই। কখনো কখনো এক থালা ভাত আর এক বাটি তরকারি ভাগ করে খেয়েছি। কনকনে শীতে একটা কাঁথা দুজন গায়ে জড়িয়ে গলা ধরাধরি করে ঘুমে বিভোর হয়েছি।

অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কিংবা মধুর কেন্টিনে সামনে হতে ছাত্রলীগের মিছিল সমাবেশ শেষে প্রেসরিলিজ নিয়ে দুবন্ধু ছুটেগেছি সংবাদপত্র অফিসে।

একই পোষাকে দু’জন দু’জনার হয়েগেছি বিশেষ দিনে। আশ্চর্য মিল আমাদের জীবনের সব অবলম্বনে।

আর্দশে বঙ্গবন্ধু। কর্মী-শেখ হাসিনার।

একই মেয়াদে ছাত্র লীগের ঢাকা মহানগর নেতা আমরা। একই মেয়াদে ছাত্রলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য। একই মেয়াদে ছাছলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। একই মেয়াদে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।

একই সময় থেকে দেশরতœ শেখ হাসিনা কর্তৃক আওয়ামী লীগের প্রথম কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য। একই সময়ে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

একই কর্মস্থল বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা। একই সময়ে পূর্ববর্তী কর্মস্থল দৈনিক রূপালী, দৈনিক লালসবুজ। আশির দশকে একই সাথে একই পত্রিকায় লেখালেখি- সাপ্তাহিক সুগন্ধা, আজকের সূর্যোদয়, সাপ্তাহিক সন্দীপ, সাপ্তাহিক ছুটি, সাপ্তাহিক ঢাকা প্রভৃতি।

একই সময়ে অবিভক্ত ঢাকা ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সদস্যপদ লাভ।

একই সময়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সদস্যপদ লাভ। একইভাবে ডিআরইউর নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও শাবান মাহমুদ সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত ও আমার কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদে জয়লাভ (উল্লেখ্য এরপর দীর্ঘদিন ডিআরইউ নির্বাচন থেকে শাবান মাহমুদ দূরে সরে থাকলেও আমি চারবার কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হই। প্রথম নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হই সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ২০০১ সালে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নির্বাচনে তিনবার কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হই।

পরবর্তীতে আমি নির্বাচন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেই। এবং শাবান মাহমুদের পক্ষে কাজ করি। শাবান মাহমুদ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নির্বাচনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগান এবং প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন।

সর্বশেষ শাবান মাহমুদ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব নির্বাচিত হন সত্তুর বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে। দোস্তের এ বিজয় আমারও অহংকার। আত্মার বন্ধন অটুট আছে প্রায় ৩৫ বছর পেছনে ফেলে। তাই তো সাংবাদিক সমাজে আমরা পরিচিত অপূর্ব জুটি হিসাবে। এ বন্ধুত্ব চিরন্তনের। কোনো হিংসার নয়। আমার ব্যক্তিগত হতাশা নেই এতটুকু। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি।

সতীর্থ বন্ধু, গুরুজনদের আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে যে, উদ্দেশ্য মহৎ হলে আল্লাহপ্রদত্ত প্রতিভা ও সুশিক্ষা আমাকে লক্ষ্য পূরণের দিকেই অগ্রসরমান করবেই। এ বিশ্বাসেই আমার চোখে কাটেনি কান্নার সাঁতার। এখন ফুটে আমার সহাস্যমুখে হাসির ফোয়ারা।