ঢাকা, সোমবার ১৯শে আগস্ট ২০১৯ , বাংলা - 

পালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের আতঙ্কিত মুসলিমরা

প্রতিবেশি ডেস্ক।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম

শুক্রবার ২৪শে মে ২০১৯ সকাল ১০:৩০:২৫

কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আবারো ক্ষমতায় আসায় ভারতের উত্তরপ্রদেশে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আধিপত্য চরমে। তাদের নানাবিধ প্রভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন অনেক আতঙ্কিত মুসলিমরা।

উত্তরপ্রদেশের নয়াবান গ্রামে মোট ৪ হাজার মানুষের মধ্যে ৪০০ জন মুসলিম। গত দুই বছরে তাদের মধ্যে প্রায় এক ডজন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। আরো অনেকে গ্রাম ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে সামর্থ্যরে অভাবে পারছেন না বলে তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছরের শেষে গরু নিয়ে সহিংসতার ক্ষত এখনো তাদের মধ্যে গদগদে।

গত নভেম্বরে নয়াবানে গরু জবাইয়ের অভিযোগে সহিংসতা জড়ায় হিন্দুরা। পুলিশ গরু জবাই বন্ধ করতে পারেনি, এমন অভিযোগে মহাসড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় তারা। সে সময় সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজন নিহত হয়েছিলেন। এরপর ওই ঘটনায় মামলা হয়, বিনা অপরাধে জেল খেটেছেন অনেক মুসলিম। ওই সংঘর্ষের জের এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন মুসলিমরা।

২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। পরের রমজানে মাদরাসাকেন্দ্রিক একটি মসজিদে আজান দেয়া বন্ধ করে দেয় কট্টরপন্থী হিন্দুরা। দীর্ঘ সময় ধরে চললেও আজান দেয়া বন্ধ করে দিতে হয় মুসলিমদের।

মুসলিম বাসিন্দা আয়েশা বলেন, এখন এখানে আমরা ধর্মীয় বিষয় প্রকাশ করতে পারি না। তারা (হিন্দুরা) যা ইচ্ছা তা করতে পারে।গরু জবাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ দিন জেল খেটেছেন ৩৮ বছর বয়সী শরফুদ্দিন সাইফি। যদিও পরে এর কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ। এখন হিন্দুরা তার কাপড়ের দোকান এড়িয়ে চলেন। বিক্রি কমা আর মামলার পেছনে টাকা খরচ হওয়ায় দোকানে মালামাল তুলতে পারছেন না সাইফি। ছেলেকে ভালো স্কুল থেকে সরিয়ে আনতে হয়েছে তাকে।

উত্তর প্রদেশের নয়াবান ছেড়ে দিল্লির নিকটবর্তী মাসুরিতে চলে গেছেন কাঠমিস্ত্রি জব্বার আলী। এক সময়ের এই সৌদি প্রবাসী সেখানে একটি বাড়ি কিনেছেন।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘যদি হিন্দুরা অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশকে হত্যা করতে পারে, তাহলে আমরা মুসলিমরা কোন ছার?’

রাজধানী নতুন দিল্লিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চলেছেন ওই গ্রামের বাসিন্দা, ২২ বছর বয়সী জুনাইদ। আগে হিন্দু প্রতিবেশীদের সাথে ক্রিকেট খেলার কথা এখনো মনে পড়ে তার।

জুনাইদ বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন হিন্দু-মুসলিম একসাথে খেলতাম- বিশেষ করে ক্রিকেট। আমি অনেক খেলেছি। কিন্তু গত এক বছরে আমরা একসাথে খেলিনি।’