ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩শে জুলাই ২০১৯ , বাংলা - 

হস্তমৈথুন নিয়ে বোনকে লেখা‘সেরা চিঠি’!

বিদেশডেস্ক।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম

শনিবার ১লা সেপ্টেম্বর ২০১৮ দুপুর ০২:৪৫:৫৬

বোনের ১৫ বছরের জন্মদিনে চিঠি লিখল দাদা। বিষয় হস্তমৈথুন। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। হস্তমৈথুন নিয়েই চিঠি। বিদেশে এই বিষয়টা স্বাভাবিক হলেও, ভারতের মতো একটি ‘সংস্কারী’ এবং রক্ষ্মণশীল দেশে এমন ঘটনা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। উদারমনস্ক নয়, এমন মানুষের কাছে হস্তমৈথুন নিয়ে চিঠি, সেটাও বোনকে উদ্দেশ্য করে দাদার লেখা – তাদের মাথায় বাজ পড়ার মতোই হতে  পারে!

তবে যারাই এই চিঠির বয়ান পড়েছে বা পড়ছেন তাঁদের কাছে এই চিঠি ‘বয়ঃসন্ধিকালের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার পাঠ’ বলেই মনে হচ্ছে। যেখানে এই দেশ হাজার খানেক ট্যাবু আর মিথের বেড়াজালে বন্দি, সেখানে এই চিঠি না কি ‘জ্ঞানগর্ভের সিংহ দুয়ার’। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই চিঠি সেক্স এডুকেশনের পাঠ্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এখন নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, এই চিঠি-তে কী এমন লেখা আছে যা নিয়ে এত গৌরচন্দ্রিকার প্রয়োজন পড়ছে!  আলোচনা আর দীর্ঘায়িত না করে পড়ুন সেই চিঠি-

প্রিয় বোন,

তোমার ১৫ বছরের জন্মদিনে তোমাকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং একই সঙ্গে বয়ঃসন্ধিতে তোমাকে স্বাগত।জেনে রেখো, এই জার্নি-তে তুমি আমাকে সবসময় তোমার পাশে পাবে এবং আমি তোমাকে আমার হৃদয় দিয়ে ভালবাসি।

বাবা-মায়ের মতো আমিও তোমার অভিভাবক। আমার মনে হয় স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে তোমার সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা প্রয়োজন এবং আমি মনে করি এটা আমার দায়িত্বও। আমি তোমার সঙ্গে এমন কিছু বিষয়ে কথা বলব, সচরাচর যে বিষয়গুলো অভিভাবকরাও এড়িয়ে যান। আমি এখানে তোমার সঙ্গে হস্তমৈথুন নিয়ে আলোচনা করব। হ্যাঁ, হস্তমৈথুন।

দয়া করে এটা বল না, যে তুমি প্রথমবার এই শব্দটা জানলে। আমি জানি, স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলে অনেক হাসাহাসি করেছ। এবং আমি নিশ্চিত, এই বিষয়ে তুমি এনেক ভুল কিছু জেনেছ, শিখেছ।  তুমি নিশ্চয় একান্তেও এই বিষয়টা নিয়ে ভাবো। বলে রাখি, আমি তোমাকে এমন কিছু বলব না, যা তোমার কাছে বিড়ম্বনার হবে।  আমি কোনও সেক্স এডুকেশনের ক্লাসও নিচ্ছি না, এই চিঠিটা লিখছি শুধু এটাই বলার জন্য, বোঝানোর জন্য-আমি তোমাকে বিশ্বাস করি এবং আমি সবময়ই বন্ধু হিসেবে তোমার পাশে সর্বক্ষণ থাকব।

৫ বছর আগে আমি যখন তোমার বয়সে পা রেখেছিলাম আমার অবস্থাও তোমার মতো ছিল। তবে আমার অতৃপ্ত জিজ্ঞাসা নিবারণের কেউ ছিল না।

নিজের শরীরকে স্পর্শ করা ও জানার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই, লজ্জা নেই। তবে নিজের শরীরকে অন্বেষণ করার আগে অবশ্যই জানা উচিত, কোনটা তোমাকে আঘাত করবে আর কোনটা তোমার ভাল লাগবে। প্রত্যেক নারীরই নির্দিষ্ট যৌন চাহিদা থাকে। একজন নারী অন্য কারও সহায়তা ছাড়াই সেই চাহিদা সম্পূর্ণ করতে পারে। তবে আমাদের সমাজ এটা কখনই ভাল চোখে দেখে না। এমনও অনেকে বলেন এই পথ ‘শয়তানের পথ’ (চধঃয ঃড় ঝধঃধহ)! কিন্তু আমি তোমাকে বলব-

এক- কখনই কিছু মানুষের ভাবনার আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়ও না। আমাদের সবারই একটা নির্দিষ্ট চাহিদা রয়েছে এবং সেটা স্বাভাবিক।

দুই- কী করবে আর কী করবে না, তার জন্য অন্যের অনুমতির প্রয়োজন নেই তোমার। তবে খেয়াল রেখো, তুমি যেন কোনও বিষয়ে আসক্ত না হয়ে পড়ও।

তৃতীয়- এটা সবসময় তোমার সুসম্পর্কের চাবিকাঠি। কারণ, তোমার প্রয়োজনগুলো তুমি তোমার সঙ্গীকে জানাতো পারছ। এবং তিনি তা  পূর্ণ করবেন।

চতুর্থ- এটা তোমাকে মানসিক অবসাদ থেকে স্বস্তি দেবে। তবে সংক্রমণের দিকটিও খেয়াল রাখতে হবে।

চাপম্ক্তু থাকো। তোমার হরমোন তোমাকে জীবনের সবথেকে অভূতপূর্ব  অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে। আমার প্রিয় নারী, জীবন উপভোগ কর।

অভিবাদন-সহ ইতি তোমার দাদা।