ঢাকা, রবিবার ৯ই মে ২০২১ , বাংলা - 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনও অনিশ্চিত

স্টাফ রিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

2021-02-17
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখনও অনিশ্চিত

কয়টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় আবারও নতুন করে কর্মী পাঠাবে সেই সংখ্যা নির্ধারণে একমত হতে পারেনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনলাইনে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক একদিনের হওয়ার কথা ছিল। তবে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যাগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম দিন বৈঠক মুলতবি হয়। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনেও একই প্রশ্নে কোনও সুরাহা করতে পারেনি দুই দেশ। তাই বাংলাদেশিদের জন্য কবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হবে তা এখনও অনিশ্চিত।

বুধবার বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার কর্মী নেওয়ার সমঝোতার মেয়াদ পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। গতকাল আলোচনার মধ্যে অনেকটা একমত-দ্বিমত চলছিল। কয়েকটি ইস্যু ছিল, সেগুলো আজ আমরা শেষ করতে পারিনি। কারণ, এই ইস্যুতে মালয়েশিয়ার নিজেদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয় আছে। আমাদেরও অভ্যন্তরীণ আলোচনার দরকার আছে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ কিছু ইস্যুতে আমরা একমত হয়েছি। যেমন, লিগালাইজেশন ফি কমানোর কথা। এখানে যে ২০ হাজার কর্মী আটকা পড়ে আছে তাদের ফেরত নেওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছে।’

শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়া কঠিন হবে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শ্রমবাজার চালু হবে।’

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকবে। আজ (বুধবার) যে আলোচনা হয়েছে সেটি দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে হয়েছে। এখানে অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলোর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তবে আলোচনার মূল বিষয় ছিল কর্মী নিয়োগে এজেন্সিগুলোর পরিধি। আমরা চাই সর্বোচ্চ সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকুক। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কিছু প্রস্তাব আছে। তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার প্রয়োজন আছে। মূল বিষয়টা আসলে এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণের পরিধি নিয়েই।’

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের জন্য ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার তৎকালীন মানবসম্পদ মন্ত্রী ঢাকায় এমওইউ বা সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে জি টু জি পদ্ধতিতে দুই লাখ শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যায়। কিন্তু শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া সরকার।