ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ই এপ্রিল ২০২৪ , বাংলা - 

উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

আন্র্তজাতিক রিপোর্ট।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

2021-10-20, 12.00 AM
উত্তর কোরিয়ার নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়া নিশ্চিত করেছে যে মঙ্গলবার তারা সাবমেরিন-থেকে-নিক্ষেপযোগ্য নতুন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ বলেছে "নিয়ন্ত্রণের জন্য তাতে অত্যাধুনিক কিছু প্রযুক্তি" রয়েছে - যার ফলে এটিকে অনুসরণ করা কঠিন।গত কয়েক সপ্তাহে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশ কিছু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া যার মধ্যে হাইপারসনিক ও দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই উত্তর কোরিয়া এসব পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় হুমকি বলে মনে করা হয় কারণ এগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী অস্ত্র বহন করতে পারে, এগুলোর পাল্লাও অনেক দীর্ঘ হয় এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উড়তে পারে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়াতে বুধবার বলা হয়েছে তাদের এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে বিশেষ প্রযুক্তি যার ফলে এটি সোজা থেকেও ডানে-বামে যেতে পারবে। এছাড়াও এটি "ইঞ্জিন ছাড়াই বাতাসে ভেসে ও লাফিয়ে লাফিয়ে" ছুটতে পারবে।রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে - ২০১৬ সালে যে সাবমেরিন থেকে পুরনো একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল সেই একই সাবমেরিন থেকে সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়।গত সপ্তাহে পিয়ংইয়াং-এ অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক প্রদর্শনীতে নতুন নতুন যেসব অস্ত্র রাখা হয়েছিল তার মধ্যেও ছিল এই মিসাইলটি।

রিপোর্টে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তার অর্থ হতে পারে যে তিনি হয়তো এই পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ বলেন যে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব দিকে, পিয়ংইয়াং যেখানে তাদের সাবমেরিন রাখে, সেখানকার সিনপো বন্দর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪৫০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ইস্ট সি বা জাপান সাগরে গিয়ে পড়েছে। এসময় ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৬০ কিমি উপর দিয়ে উড়ে যায়।

সাবমেরিন-চালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তাৎপর্য

উত্তর কোরিয়া ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে একটি সাবমেরিন-চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছিল। এই পুকগুকসং-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি পানির নিচ থেকে ছোঁড়া হয়েছিল।

এসময় উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি কৌণিকভাবে ছোঁড়া হয়েছে যাতে এটি বাইরের যে কোন হুমকি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে যদি খাড়া নিক্ষেপ না করে তার স্বাভাবিক তির্যক পথে নিক্ষেপ করা হতো তাহলে সেটি ১,৯০০ কিমি পথ পাড়ি দিতে পারতো। এর অর্থ এটি দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের যেকোনো জায়গায় গিয়ে পৌঁছাতে সক্ষম।

সাবমেরিন থেকে কোন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে সেটি চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে। ফলে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে কোরীয় উপদ্বীপের বাইরেও তার অস্ত্র মোতায়েন করা সম্ভব হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে এক অস্ত্র-প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সউলে এসপ্তাহে এযাবতকালের মধ্যে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা-প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বলা হচ্ছে সেখানে নতুন কিছু যুদ্ধবিমানসহ নিয়ন্ত্রণ করা যায় এরকম কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও প্রদর্শন করা হবে। এছাড়াও তাদের নিজেদের স্পেস রকেটও উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে।

উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কার্যত এক যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে যার ফলে এই উপদ্বীপ দুটো দেশে পরিণত হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আন গত সপ্তাহে বলেছেন, তিনি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে চান না। তবে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তাদের অস্ত্র তৈরির কাজ অব্যাহত থাকবে।

উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধানরা সউলে এক বৈঠক করতে যাচ্ছেন।